বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বাবুগঞ্জে রাতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল নিয়ে হাজির ইউএনও বাবুগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের বাবুগঞ্জে জমিতে গরু বাঁধাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলা: নারীসহ একই পরিবারের ৩ জন গুরুতর আহত আমরা প্রতিশোধ মূলক কোনো কাজ করব না-জয়নুল আবেদীন বাবুগঞ্জে রবি মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে প্রদর্শনীর বীজ ও উপকরণ বিতরণ বরিশালে এনএসআই’র তথ্যের ভিত্তিতে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান: মানহীন মিষ্টি–আইসক্রিম কারখানায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা বাকেরগঞ্জে অসহায়-হতদরিদ্র পরিবার উপহার পেল ’স্বপ্নকুঞ্জ’ বাবুগঞ্জে বেপরোয়া কিশোরগ্যাং: কলেজ ছাত্রকে মারধরের পর ফেসবুকে পোস্ট বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির মনোনয়নকে ঘিরে উৎসাহ—জনসমর্থনে এগিয়ে অ্যাড. জয়নুল আবেদীন বাবুগঞ্জ এলজিইডি’র এলসিএস কমিউনিটি অর্গানাইজার সানজিদার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ও হয়রানির অভিযোগ
বরগুনায় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার সংবাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বরগুনায় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার সংবাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বরগুনায় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার সংবাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
বরগুনায় ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার সংবাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

বরগুনা শহরের ভাইরাল হওয়া ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মারামারির ঘটনাটি গত রবিবার বরগুনা প্রেসক্লাবে দুপুর সাড়ে বারোটায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মধ্য দিয়ে উভয়ের মিলে মিশে যাওয়ার লিখিত পত্র পাঠ করে। শহরের ঘুষখোর ও সুদখোর দুজনের মধ্যে মারা মারির ভাইরাল হওয়া চিত্রটি দুঃখ প্রকাশের মধ্য দিয়ে যবনিকা টানতে চেয়েছিলেন দুজনের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক বজায় আছে এমন তথ্য দিয়ে। আমরাও জানি প্রকৌশলী ও ঠিকাদার দের সাথে আড়ালে ভালো সম্পর্ক থাকে বলেই এরকম মারামারি হাতাহাতির সরকারি অফিসের সামনে ভাইরাল হওয়া বিচিত্র কিছুই নয়।  সংবাদ সম্মেলনে ঠিকাদার ফরহাদ হোসেন জমাদার তার লিখিত পত্রের পাঠ করে বলেন তার হৃদয় কাটা। উত্তেজনার বসত এই ঘটনার জন্ম হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।  আসলে কি তাই? দৈনিক আজকের বরিশাল বরগুনা জেলা প্রতিনিধি মারামারি হাতাহাতির ভাইরাল হওয়া ঘটনা অনুসন্ধানী রিপোর্ট করার জন্য বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারি প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী ও অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী সঙ্গে ফোনে এবং শরীরের যোগাযোগ করেছেন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। প্রকল্পের বাস্তবায়িত কাজটির তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এবং মারামারি হাতাহাতির ঘটনা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেছেন অপর অভিযুক্ত ব্যক্তি ঠিকাদার ফরহাদ হোসেন জমাদার এর সঙ্গে। যে জামানতের টাকা নিয়ে মারামারি ঘটনা ঘটেছে সেই প্রকল্পের বাস্তবায়িত রাস্তা সরেজমিনে দেখে তা থেকে ছবি সংগ্রহ করেছেন। রাস্তার সরজমিনে দেখতে গিয়ে দেখা যায় রাস্তাটি গতবছরে বাস্তবায়িত হয়েছে। দীর্ঘদিন চরম অবহেলা ও ভাঙ্গাচুরা থাকার পরে রাস্তা টিকে মেইনটেনেন্স জন্য এলজিইডি বরগুনা দরপত্র আহ্বান করে। গত বছরই এই কাজটি সম্পাদন করে যাওয়া রাস্তাটি বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দে ভরা এবং কিছু কিছু জায়গায় রাস্তাটি গর্ত হয়ে ডেবে যাওয়া চিহ্ন রয়েছে। সামান্য একদিনের বৃষ্টির পানিতে লোকজনের চলাফেরা করতে অনুপোযোগী একটি কুয়ার সড়কে পরিণত হয়েছে রাস্তাটি।  বরগুনা শহরের প্রাণকেন্দ্র মাছ বাজার ও লাকুরতলা ব্রীজের নিজ থেকে রাইফেল ক্লাব হয় বরগুনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এর বাসার সামনে দিয়ে মহাসড়কের পূর্বে অনুকূল বাবুর ইটভাটা পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তাটি পুনঃ নির্মাণ করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ফরহাদ হসেন জমাদ্দারের প্রতিষ্ঠানের নামে জনৈক মনির হোসেন নামে সাব-কন্ট্রাক্টর। ব্যস্ততম এই সড়কটি নির্মাণে শুরুতেই তামাশায় পরিণত করেছে ঠিকাদার ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। গতবছর রাস্তাটি নির্মাণের সময় ট্রাকে করে চুলার মাটি রঙের খোয়া এনে রাস্তা নির্মাণ করার চেষ্টা চালালে জনৈক এক রিপোর্টারের চাপের মুখে তড়িঘড়ি করে উক্ত মালামাল সরিয়ে নেয়। জানা যায় পরবর্তীতে ওই রিপোর্টার অনুপস্থিতিতে সাপ কন্টাকটার মনির রাস্তায় ওই বাজে মালামাল ব্যবহার করেন। রাস্তার প্রকল্পের ব্যয় সময়সীমা ও আনুষঙ্গিক বিষয় গুলো নিয়ে সরোজমিনে অভিযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ তিনি প্রতিবেদককে বলেন যেহেতু জেলা অফিস থেকে টেন্ডার হয়েছে কাজ বাস্তবায়ন হয়ে গেলে আমাদের কাছে এর কোন তথ্য-উপাত্ত থাকেনা। প্রকল্পের বায়না কত টাকা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন এখন এই বিষয়টি আমার মনে পড়ে না। প্রতিবেদক তার কাছে জানতে চাইলো কিসের উপরে আপনি জামানত দেওয়ার কাগজে সই করবেন তখন তিনি একদম চুপ করে যান এবং এর কোন উত্তর দেন নাই। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে আপনি তাকে আপনার অফিসে জামানত টাকা নেয়ার জন্য বস্তে বলেছিলেন কিন্তু তাকে একটি বারের জন্য আপনি রাস্তা সুপারভিশন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই কথা শুনে উপসহকারী প্রকৌশলী প্রতিবেদককে উত্তর না দিয়ে বাহিরে যাওয়ার জন্য চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ান। তার অফিস কক্ষ থেকে বের হতে হতে প্রতিবেদক তাকে জিজ্ঞাসা করলেন নির্মাণাধীন রাস্তায় আপনি কবে গিয়েছিলেন এবং রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন রাস্তার অবস্থা অনেক ভালো তবে কবে গেছেন তা তিনি মনে করতে পারেন নাই এবং তিনি জোর দিয়ে বলেন রাস্তায় কিছুদিন পূর্বে ঠিকাদার মেইনটেনেন্স করেছেন বলে দ্রুত চলে যান। প্রতিবেদক সরজমিনে রাস্তা দেখে মেইনটেনেন্স কবে হয়েছে তা জানতে চেয়ে উপসহকারী মিজানুর রহমানকে ফোন দিলে প্রতিবেদক এর ফোনটি আর ধরেন নাই।  এ বিষয় নিয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার ফরহাদ হোসেন জমাদার এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমার এসব বিষয়ে কিছু মনে পড়ে না এবং স্মরণ নাই। কাজটি তিনি মনির নামক  রাজমিস্ত্রির কাছে সাব-কনট্রাক্ট এ দিয়েছিলেন তাই তিনি বেশি কিছু বলতে পারছেন না। প্রতিবেদক সময় ঠিকাদার এর কাছে জানতে চাইলেন জামানতের টাকা না-নেওয়ার আগেই সবকিছু ভুলে গেলেন। প্রতিউত্তরে তিনি বললেন আমি জামানতের টাকা পেয়ে গেছি, এসময় প্রতিবেদক তাকে বললেন গত বৃহস্পতিবার এই জামানতের টাকার জন্য মারামারি-হাতাহাতি করতে গিয়ে ভাইরাল হলেন এবং আজকের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে আপনি উল্লেখ করেননি অথচ জামানতের টাকা কিভাবে পেলেন এই কথা শুনেই ঠিকাদার কোন উত্তর না দিয়ে ফোন লাইন কেটে দিয়ে ফোনটি বন্ধ করে দিলেন।

নির্বাহি প্রকৌশলীর অফিসে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার মুঠোফোনে প্রকল্পের বিষয় টি জানতে চাইলে তিনি বলেন উপজেলা প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানের কাছে তথ্য আছে তারা আপনাকে তথ্য উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করবেন। নির্বাহি কার্যালয় উপস্থিত থাকা সহকারী প্রকৌশলী তার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রকল্পের আইডি নাম্বার দিতে পারলে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে সহায়তা করতে পারবেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রকৌশলী তাকে এই বিষয়ে ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর মধ্যে ঘটনাটি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বলে তিনি ফোনটি রেখে দেন।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2012
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Jp Host BD